মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এনজিও

৩টি এনজিও এর শাখা চালু রয়েছে। সেগুলো হল:

১। ব্র্র্যাক

২। আশা

৩। আর, ডি, আর, এস বাংলাদেশ

এগুলো  গ্রামের গরীব মানুষদের লোন সহায়তা দিয়ে থাকে।

দারিদ্র বিমেচন শ্লোগানকে ভিত্তি করে দরিদ্রের পূঁজি করে এক শ্রেণীর কতিপয় মানুষ সংগঠিত হয়ে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত না হয়েও স্থানীয় সমাজ সেবা, সমবায় অধিদপ্তর ইত্যাদি কর্তৃক নিবন্ধিত হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এনজিও প্রতিষ্ঠা করে কিভাবে তাঁরা তাদের পুঁজির বিকাশ ঘটাচ্ছে এবং এরই ক্রীড়ানকে পড়ে দরিদ্র সহায় সম্বলহীন অসহায় মানুষগুলো কিভাবে দারিদ্রের দুষ্টচক্রে নিপতিত হয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশী ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিওদের আচরন, উদ্দেশ্য তাদের ঋন সৃষ্টির প্রক্রিয়া, সুদের হার, গ্রামীন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, প্রাতিষ্ঠানিক মধ্যস্বত্বভোগী ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের বিকাশ ও গ্রামীন জনগোষ্ঠীর উপর মাইক্রো ক্রেডিটের ফলাফল উল্লেখিত প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় ।

ভুমিকাঃ
বর্তমান সরকার স্বাধীন দূর্ণীতি দমন কমিশন গঠন, নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও পূণঃগঠন, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণসহ আর্থিক খাত সংস্কারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়াত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ইতোমধ্যেই পাবলিক লিঃ কোম্পানীতে রূপান্তর করেছে। এছাড়াও পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, সরকারী-আধাসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চলছে সংস্কার এর লক্ষ্যে শুদ্ধি অভিযান। দূর্ণীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার ও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সহ দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠার জন্যও নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্ছেদ করা হয়েছে সরকারী জমির উপর গড়ে উঠা অনেক অবৈধ স্থাপনা। সর্বপরি, দেশের রাজনৈতিক অবস্থার সুস্থ গতিধারা সৃষ্টি ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে সংস্কার। কিন্তু সিডর আক্রান্ত হওয়ার পর NGO গুলোর বিষয়ে সরকার কর্তৃক কিছু বক্তব্য ছাড়া কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ এখন পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। বর্তমানে আমাদের দেশে ছোট-বড়, দেশী-বিদেশী মিলিয়ে প্রায় ২০,০০০ এর মত এনজিও রয়েছে। যাদের কার্যক্রম যাথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা আজ সময়ের দাবী। ইতোমধ্যে Micro Credit Programme এর মাধ্যমে জনকল্যাণকর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ডঃ ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। যদিও Micro Credit তত্ত্বের জন্য শান্তির পরিবর্তে অর্থনীতিতে নোবেল পেলে সঙ্গতিপূর্ণ হতো। ব্র্যাক পেয়েছে স্বাধীনতা পদক সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরষ্কার। এতসব সম্মাননার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে তাদের কর্মকান্ডের কারণে দেশের বৃহত্তর হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী কিভাবে শোষিত হচ্ছে, আর এনজিও মালিক তথা এনজিও ব্যবসায়ীরা কিভাবে গড়ে তুলছে সম্পদের পাহাড়। এনজিও ব্যবসার একমাত্র উপাদান হলো দারিদ্রতা, মাধ্যম শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ। আর প্রকারান্তে কতিপয় ব্যতিক্রম বাদে তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো দারিদ্র বিমোচনের নামে রমরমা সুদের ব্যবসা করে অতি মুনাফা অর্জন করা।

এনজিও’র গঠন, উদ্দেশ্য, কর্মকান্ডের পরিধি ইত্যাদি দিক বিবেচনায় এনে এনজিও গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারেঃ-

(১) বিদেশী এনজিওঃ যে সমস্ত এনজিও সম্পূর্ণ বিদেশী সাহায্য পুষ্ট হয়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। Micro Credit তাদের মূল
উদ্দেশ্য নয়। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কি, সে ব্যাপারে সরকার জ্ঞাত আছে কিনা তা আমরা জানিনা। তবে সাধারণ জনগনের এ ব্যাপারে তেমন কোন ধারণা নেই বললেই চলে। এছাড়াও সিপিডি, টিআইবি ইত্যাদির মতো সংগঠনগুলো কাদের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে, কি তাদের উদ্দেশ্য, তারা কাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করছে এ বিষয়টিও সুষ্পষ্ট নয়।

(২) জাতীয় পর্যায়ের এনজিওঃ এই পর্যায়ের এনজিওর মধ্যে রয়েছে আশা, ব্য্রাক, প্রশিকার মত বড় বড় এনজিও। এই এনজিও গুলোর কর্মকান্ডের পরিধি
দেশব্যাপী। তারা বিভিন্ন ধরণের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। Micro Credit তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য হলেও বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান গড়ে কোন কোন ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ব ভোগী এবং কোন ক্ষেত্রে একচেটিয়া কারবারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কোন কোন এনজিও আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে শিক্ষাবাণিজ্যও শুরু করেছে। এছাড়াও বড় বড় এনজিও গুলো দরিদ্র ও নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদের মাঝেও ঋণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

(৩) লোকাল এনজিওঃ এ সমস্ত এনজিও গুলোর বেশির ভাগই এনজিও ব্যুরো কর্তৃক নিবন্ধিত নয়। সমাজসেবা, সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হয়েই তাঁরা
তাদের এনজিও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের প্রধান কাজ এবং উদ্দেশ্য Micro Credit এর নামে টাকা লগ্নি করে অধিক মুনাফা অর্জন করা ।

কর্মকান্ড, কর্মপরিধি ইত্যাদি দিক বিবেচনা করলে জাতীয় পর্যায়ের এনজিও ও লোকাল এনজিওর মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের গঠন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ
ব্যক্তিতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ । এনজিও প্রতিষ্ঠানের যিনি প্রতিষ্ঠাতা তিনি তাঁর আজ্ঞাবহ ব্যক্তিদের নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করেন। এবং প্রতিষ্ঠাতাই হয়ে যান এনজিও মালিক এবং একচ্ছত্র অধিপতি। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এটা নিশ্চিত যে, এখানেও সৃষ্টি হবে পরিবারতন্ত্রের অপচ্ছায়া। এনজিওগুলো সমাজের সবচেয়ে নিমণ আয়ের মানুষদের নিয়ে সবচেয়ে উচ্চ মুনাফার ব্যবসা করেন। অথচ এজন্য তাদের দিতে হয়না ভ্যাট, ট্যাক্স। কিন্তু তারাই আজ অনেক বড় গলায় বলে থাকেন যে, তারা দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মনে হয় তাদের নেই কোন লোভ, নেই কোন লাভ, আছে শুধুই ত্যাগ আর ত্যাগ। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গরীব অসহায় মানুষদের সাথে যারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোনরুপ জবাবদিহিতা ব্যতীরেকেই স্বাবলম্বী / আত্ন-কর্মসংস্থানের নামে ‘‘দারিদ্র বিমোচন’’ ব্যবসা করে তাদেরকে সুদের চক্রবাকে নিষ্পেষিত করে চলেছে সেখানে রাষ্ট্রের করণীয় কি, তা কালবিলম্ব না করে এখনই সরকার কর্তৃক যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। কারণ এনজিওগুলোর এ ব্যাবসা যতই সম্প্রসারিত হচ্ছে, নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী এনজিও ঋণের দুষ্টচক্রে ক্রমেই আবদ্ধ হয়ে পড়ছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ
আলোচ্য প্রবন্ধের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের একটি পরিসংখ্যানিক চিত্র তুলে ধরে তাদের আসল চরিত্র উন্মোচন করা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।

(i) দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও কর্মকান্ডের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরা এবং

(ii) এনজিওদের সংস্কারের লক্ষ্যে কতিপয় সুপারিশ মালা পেশ করা।

পদ্ধতিঃ
আলোচ্য প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্যসমূহ মৌলিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সরাসরি অনুসন্ধানক্ষেত্র থেকে পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কিছু কিছু মাধ্যমিক তথ্য যেমন এনজিও সম্পর্কিত দেশী বিদেশী পুস্তক, গবেষণা প্রবন্ধ সাময়িকী ও সংবাদ পত্রের সহায়তা নেয়া হয়েছে।

দারিদ্র বিমোচনের নামে এনজিও কর্মকান্ডঃ

এনজিও কর্তৃক ঋণ ও সুদ সৃষ্টি :
এনজিও ঋণের সুদের বিষয়টি দু’দিক থেকে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। প্রথমত একজন ঋণগ্রহীতা এনজিওর নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করে প্রকৃত অর্থে কি হারে সুদ (Effective Interest Rate) প্রদান করে। দ্বিতীয়ত: এনজিও গুলো ঋণের আদায়কৃত সাপ্তাহিক কিস্তি ও সঞ্চয়কে পূনঃপূনঃ বিনিয়োগ করে কি পরিমাণ সুদ আদায় করে, তার একটা সরল নমুনা চিত্র এখানে উপস্থাপন করা হলো। এক্ষেত্রে একটি লোকাল এনজিও ’প্রবাহ’ ও গ্রামীণ ব্যাংকর পাশ বইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। প্রবাহ এনজিওর পাশবই খেকে দেখা যায়, একজন ঋণগ্রহীতা ১০,০০০/= টাকা ঋণ গ্রহন করলে সার্ভিস চার্জসহ তাকে ৪৮টি সাপ্তাহিক কিস্তিতে ২৫০/= টাকা হারে সর্বমোট ১২০০০/= টাকা পরিশোধ করতে হয়।
সেক্ষেত্রে প্রকৃত সুদের হার (Effective Interest Rate) হয় ৩৯.১৮%। এছাড়াও ঋণ গ্রহীতা প্রতি সপ্তাহে সঞ্চয় হিসাবে ২০/= টাকা করে জমা প্রদান করে।


Share with :

Facebook Twitter